রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত ৩০ জুলাই রাতে বিয়ের আসর থেকে প্রেমিকাকে নিয়ে উধাও হয়েছে প্রেমিক। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে সদর ইউপির চাঁন্দামারী এলাকায়। বুধবার রাতে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হকের মধ্যস্থতায় ছেলের পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকায় রফা-দফা হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকাসহ গোটা উপজেলা জুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা গেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই রাতে সদর ইউপির চাঁন্দামারী এলাকার রাজু মিয়ার মাদ্রাসা পড়–য়া কন্যা ও চাঁন্দামারী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী আরিফা (১৪) এর সঙ্গে সওদাগড় পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র বাবু মিয়া (২২) এর সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ের দিনক্ষণ ধার্য্য ছিল। এরই মাঝে কন্যা আরিফার বয়স কম হওয়ায় তড়িঘড়ি করে সদর ইউপির ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শামছুল হকের নাতনী হওয়ার সুবাদে ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হককে ম্যানেজ করে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর বয়স ১৯ বছর দেখিয়ে জন্ম সনদ প্রদান করা হয়। দুপুর গড়তেই কনে পক্ষের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উভয় পক্ষের দাওয়াতের লোকজনের ভূরিভোজের জন্য মাংস-পোলাও রান্না-বান্নার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর পক্ষের লোকজন কিছুক্ষণপর কনের বাড়িতে বরকে নিয়ে হাজির হবেন। ঠিক সেই মূহুর্তে বাধ সাধে একই গ্রামের ইলিয়াস মিলিটারীর পুত্র আরিফার প্রেমিক শাহীন (২৪)। মোবাইল ফোনে শাহীন তার প্রেমিকা আরিফাকে ডেকে বাড়িতে নিয়ে যায়। বিয়ে বাড়ির লোকজন হঠাৎ আরিফাকে না পেয়ে চারদিকে হুলস্থুল কারবার শুরু হয়। খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে জানা যায়, আরিফা তার প্রেমিক শাহীনের বাড়িতে চলে গেছে। এ খবর দ্রুত বরপক্ষের বাড়িতে পৌঁছূলে বর বাবু মিয়া আর ওই বিয়েতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রাতভর শালিস বৈঠক করেও বরকে আর রাজি করানো যায়নি। এক পর্যায়ে মেয়ের পরিবারের লোকজন ইলিয়াস মিলিটারীর বাড়িতে গিয়ে তার পুত্র শাহিন ও আরিফাকে উদ্ধার পূর্বক শালিসে হাজির করে। ৩১ জুলাই রাতভর ওই শালিস বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রেমিক শাহিনকে ইউপি চেয়ারম্যান তার জিম্মায় নেয়ার কথা বলে তাকে ওই শালিস থেকে কিছু ভাড়াটে লোকজনের সহযোগিতায় মোটর সাইকেল যোগে প্রেমিক শাহিনকে ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক পালিয়ে দেয়। বিষয়টি ওই মূহুর্তে শালিসের লোকজন বুঝতে পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের উপর তারা চড়াও হন এবং এক পর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান দ্রুতই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করবে মর্মে অঙ্গীকার করলে উপস্থিত লোকজন শান্ত হন। সু-চতুর প্রেমিক শাহিনের পরিবার ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজস করে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ৫ আগষ্ট বুধবার রাতে রফা-দফা হয়। ফলে ভেঙ্গে যায় আরিফার বিয়েটি। ইউপি চেয়ারম্যান মো. এনামুল হকের সঙ্গে তার মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মিমাংসার ২ লাখ টাকা আমার কাছে জমা রাখা হয়েছে এবং ওই অর্থটি মেয়ে এবং আমার নামে যৌথ একাউন্ডে জমা রাখা হবে। পরবর্তীতে আরিফার বিয়ের সময় ওই অর্থটি ব্যবহার করা হবে। আর ভাড়াটে পোলাপানদেরকে শাহিনের পরিবার থেকে কিছু অর্থকড়ি দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে। মাদ্রাসা ছাত্রী আরিফার সম্পর্কীয় দাদা রাজারহাট সদর ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. শামছুল হকের সঙ্গে এ বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলতঃ আরিফা আমার ভাতিজার মেয়ে নাতনী। শুনেছি, চেয়ারম্যান সাহেব বুধবার রাতে বিষয়টি মিমাংসা করেছেন এবং এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। মিমাংসার টাকা-পয়সা এখনো মেয়ের পরিবারের কাছে জমা হয়নি। পরে বিস্তারিত আপনাদের জানাবো বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। সবমিলিয়ে অত্র উপজেলা জুড়ে ঘটনাটি টক অব দ্যা রাজারহাটে পরিণত হয়েছে।